| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পড়ে যাচ্ছে মোদী সরকার?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২১, ২০২৬ ইং | ২২:১৬:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৫৭৭ বার পঠিত
পড়ে যাচ্ছে মোদী সরকার?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সকাল থেকেই কনট প্লেস, জনপথ ও যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন ও সড়কে বিধিনিষেধ থাকলেও তারা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পারেনি। তারা দিনভর সেখানে অবস্থান করেন।

প্রায় এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের মূল দাবি শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনের পরিধি এখন শিক্ষা ইস্যু ছাড়িয়ে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নেও বিস্তৃত হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি নাগরিক সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এবার বাস্তবেও বড় জনসমাগম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি।

সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, বিক্ষোভকারীরাই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একটি লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের মূল দাবি সরকার মেনে নেয়নি। অন্যদিকে সিজেপিও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা, যিনি শুরু থেকেই আন্দোলনটি পর্যবেক্ষণ করছেন, মনে করেন, এই বিক্ষোভ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তার মতে, তরুণরা শুধু শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং জবাবদিহির মতো জাতীয় ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও আন্দোলনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, নতুন প্রজন্ম শুধু নিজেদের স্বার্থে নয়, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিমূলক রাজনীতির দাবিতেও সোচ্চার হয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত অত্রির বলেন, এই আন্দোলন মোদী সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, জনগণ এখন ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বাইরে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার যদি এই বার্তা উপেক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিজেপির এই আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে না পারলেও দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষকে দৃশ্যমান করেছে। আগামীতে এই অসন্তোষ রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪