জবি প্রতিনিধি :
সম্পূরক বৃত্তি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ(জকসু) নির্বাচনের আয়োজনের দাবিতে জবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ঠা আগস্ট) বেলা ১২ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এ দুই দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা জকসু ও সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বেলা ৩ টায় সেদিনের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জকসু নীতিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সম্পূরক বৃত্তি কবে থেকে শিক্ষার্থীরা পাবে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবি দাওয়া খুব হালকা ভাবে নিয়ে ভুল করছে৷ প্রশাসন আমাদের আরো কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র সুকুল বলেন, আমাদের সম্পূরক বৃত্তি কবে দিবে তা জানাতে হবে৷ এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের আমরা প্রশাসনকে এনেছি। তারা যদি বলে, কাজ হচ্ছে, হবে— এভাবে চলবেনা। তারা কেন পারছেনা, সমস্যা কোথায়? কোন অদৃশ্য শক্তি বাধা দিচ্ছে— সেটা আমাদের জানাতে হবে।
জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জকসু আমাদের প্রাণের দাবি। এটা কবে আয়োজন করবে সেটা জানাতে হবে। এতদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দোহাই দিয়েছে, এখনতো সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আর কিসের বাধা? অতিদ্রুত নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে না থাকলে, বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি সংযোগ করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, সম্পূরক বৃত্তি এবং জকসু নিয়ে প্রশাসনের প্রহসন আর সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষার্থীবিরোধী প্রহসন চলছেই। সম্পূরক বৃত্তি কবে নাগাদ শিক্ষার্থীরা পাবে, তা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে—ধোঁয়াশা চলবে না। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে জকসুর নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪-১৬ মে ৩ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে লংমার্চ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে ৩ দফার মধ্যে একটি দফা ছিলো সম্পূরক বৃত্তি যা জুলাই মাস থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নীতিমালা এখনো পাশ হয়নি। এই দুই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা একসাথে অবস্থান কর্মসূচিতে বসে।