| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি ও বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের চোখে পড়ার মতো প্রভাব

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৬, ২০২৫ ইং | ১৩:৩১:৪১:অপরাহ্ন  |  ১৬৭৩৮৪৩ বার পঠিত
অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি ও বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের চোখে পড়ার মতো প্রভাব
ছবির ক্যাপশন: ফাইল ছবি

আমিনুর ইসলাম :  একুশ শতকের অন্যতম বৈশ্বিক সংকট হিসেবে সামনে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত গরম, ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা কিংবা দীর্ঘ খরার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফলাফল হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে এবছরের এপ্রিল মাসে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ এখন খুলনা, রাজশাহী, পাবনা ও টাঙ্গাইলসহ বেশ কিছু জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাও মাঝারি তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য, কৃষি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ফলাফল স্পষ্ট হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিপরিবেষ্টিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গড়েছে দেশটি। একদিনেই ২৫৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে দুবাই, শারজাহসহ বিভিন্ন শহরে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয় বিমান চলাচল। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, যা অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে বৃষ্টি-ঝড়ের প্রকোপও বেড়েছে। হিমালয় ও অন্যান্য পর্বত এলাকার হিমবাহ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের নিচু এলাকাগুলো এখন নোনাজলের হুমকির মুখে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা এবং নদীভাঙনের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভবিষ্যতে আরও তীব্র ও ঘনঘন হতে পারে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তাতে সফল হতে হলে প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও গভীর। কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে খাদ্য সংকট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘জলবায়ু সংকট’ এবং ‘সভ্যতার অস্তিত্ব সংকট’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এখন সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো, টেকসই নগরায়ণ, বন সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি—এই কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায় অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং এর মূল্য দিতে হবে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।


রিপোর্টার্স ২৪/এমবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪