ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ফুটবল থেকে শুরু করে ব্যালন ডি’অর দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য ধরে রাখা এই দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি লড়াই নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে। তবে এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত দেখা যায়নি।
প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে চাপে পড়ে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে। গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠার আশা জিইয়ে রেখেছে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা।
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের চলমান উত্তেজনার মাঝেই বড় দুঃসংবাদ পেলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। তার মা মারা গেছেন। মায়ের মৃত্যুর কারণে ফ্রান্সে ফিরে যাচ্ছেন দেশম। এ কারণে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যাবে না তাকে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে এক অনন্য দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ফাইনালে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা প্রটোকল ভেঙে
স্পোর্টস ডেস্ক: ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন। আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিও শহরে জন্ম নিয়েছিলেন এক শিশু, যিনি একসময় হয়ে উঠবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। মা-বাবার তৃতীয় সন্তান সেই লিওনেল মেসি আজ ৩৯তম জন্মদিনে পা রেখেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসেও তিনি যেন আরও বেশি দুর্দান্ত, আরও বেশি ক্ষুধার্ত। যেখানে অধিকাংশ কিংবদন্তি বয়সের ভারে অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হন, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি যেন নতুন করে লিখছেন ইতিহাস। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে শুধু আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেননি, নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন একের পর এক রেকর্ডও। নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে ফুটবলের হাতেখড়ি। এরপর বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দেওয়া। শৈশবে গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই, ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং অসংখ্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের লিওনেল মেসি শুধু বিশ্বের সেরা ফুটবলারই নন, অনেকের চোখে তিনি সর্বকালের সেরাও। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তার অপূর্ণতার শেষ অধ্যায়ও পূর্ণতা পায়। তবে চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি যেন আরও ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেসির গোলসংখ্যা ছিল ১৩। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি স্পর্শ করেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বর্তমানে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১৮। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আবেগ ও ইতিহাসের এক অনন্য মিশ্রণ। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে রেকর্ড ভাঙার সুযোগ পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন মেসি। তবে হতাশাকে শক্তিতে রূপ দিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার কাটব্যাক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন। ম্যাচের শেষদিকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট এককভাবে নিজের মাথায় তুলে নেন। রেকর্ড গড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছায় ভাসেন মেসি। সবচেয়ে আলোচিত বার্তাটি আসে স্বয়ং মিরোস্লাভ ক্লোসার কাছ থেকে। জার্মান কিংবদন্তি বলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন।’ এর আগেও ক্লোসা জানিয়েছিলেন, তার রেকর্ড যদি কেউ ভাঙেন, তবে মেসির মতো একজন ফুটবল প্রতিভাই তার যোগ্য উত্তরসূরি। মজার বিষয় হলো, ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো গোল পাননি মেসি। বাকি প্রতিটি আসরেই গোল করেছেন তিনি। অন্যদিকে তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো টানা ছয়টি বিশ্বকাপেই গোল করে আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ২০০৬ সালে কিশোর প্রতিভা হিসেবে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা মেসি আজ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপ, খেলেছেন একাধিক ফাইনাল এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, জয়ের জন্য আমি খুব খুশি। এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। পেনাল্টি মিস করেছিলাম, কিন্তু পরে আমরা পরিস্থিতি সামলে নিয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দল জিতেছে এবং আমরা পরের পর্বের খুব কাছে পৌঁছে গেছি। ৩৯তম জন্মদিনে এসে মেসি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম। বয়স তার গতি কমাতে পারেনি, কমাতে পারেনি ইতিহাস গড়ার তাড়নাও। বরং ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন আবারও প্রমাণ করছে—লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি নিজেই এক জীবন্ত ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসে প্রতিনিয়ত নতুন অধ্যায় যোগ হচ্ছে তার বাম পায়ের জাদুতে।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একদিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি, অন্যদিকে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করে নতুন নজির গড়েছেন রোনালদো। আর দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
শেষ মুহূর্তে প্রবল চাপ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের এই ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করেছে তারা। রক্ষণাত্মক ও সংগঠিত পারফরম্যান্সে পুরো ম্যাচজুড়েই ইংলিশদের আটকে রাখে আফ্রিকান দলটি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখলেও ঘানার জমাট রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেও গোলের দেখা পায়নি থমাস টুখেলের দল।
সমালোচনার জবাবটা মাঠেই দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার জোড়া গোলের সঙ্গে রাফায়েল লিয়াওয়ের গোল এবং একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে পর্তুগাল।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকের অপেক্ষায় থাকা পর্তুগাল সমর্থকদের উল্লাসে শেষ পর্যন্ত যোগ দিলেন বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লিয়াও। মাঠে নামার পরই গোল করে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের লিড ৫-০ করেন এই ফরোয়ার্ড।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেট-পিস থেকে নিজেদের কার্যকারিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রবার্তো মার্টিনেজের দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই তার জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
বিশ্বকাপে আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে রোনালদোর পর্তুগাল। আরও রয়েছে ইংল্যান্ড বনাম ঘানার ম্যাচ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আজ রাত ১১টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ক্রিস্টিয়ানো
বিশ্বকাপের গ্রুপ কে-এর দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের ঐতিহ্যবাহী এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। ৭২ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল ভেন্যুতে ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হলেও, তালিকায় পর্তুগালকে হোম টিম হিসেবে ধরা হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল তারকা নেইমারের মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও এবার তার ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।