| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হরমুজে গুলিবর্ষণের অভিযোগ, নতুন করে উত্তেজনা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ইং | ১৮:০২:০১:অপরাহ্ন  |  ৪২৮ বার পঠিত
হরমুজে গুলিবর্ষণের অভিযোগ, নতুন করে উত্তেজনা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ইরান আবারও প্রণালিতে কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিপিং সূত্রগুলো।

শিপিং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানায়, শনিবার কয়েকটি জাহাজ হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন নাবিকরা। কিছু জাহাজে ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, প্রণালি বন্ধ এবং কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

এর কিছুক্ষণ আগেই স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী আটটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ করে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় নৌ চলাচল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরে পরিস্থিতি আবারও বদলে যায়।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় কঠোর সামরিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে “দস্যুতা” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করে যে, বিদেশি শক্তিগুলো সমুদ্রপথে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনী শত্রুদের “নতুন কঠিন পরাজয়” দিতে প্রস্তুত।

এই পরিস্থিতি আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কারণ যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে “কিছু ভালো অগ্রগতি” হয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি বুধবারের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ না নিলে আবার সংঘাত শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে এবং সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।

চলমান সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা শোনা গেলেও এখনো কোনো প্রস্তুতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো অনিশ্চিত।

ইরান আবারও স্পষ্ট করেছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক মজুদ সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

গত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিলেও ইরান স্বল্পমেয়াদি বিরতির প্রস্তাব দেয়।

হরমুজে সাময়িক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায় এবং শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা দেয়। তবে নতুন উত্তেজনায় সেই স্থিতিশীলতা আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪