স্পোর্টস ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসার নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট অঙ্গনের তারকারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘আজ সকালে এই খবর শুনে আমি সম্পূর্ণভাবে হতবাক। ছোট্ট রামিসার নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল… এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। আমি এই নিষ্পাপ শিশুর দ্রুত ও সঠিক বিচার দাবি করছি। কোনো পরিবারকে যেন আর কখনো এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’
ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জয়ের আনন্দ এখনো আছে, কিন্তু মনটা বিষণ্ণ, হতাশ। কী দোষ ছিল এই ছোট্ট শিশুর? আমরা কবে এসব থেকে মুক্ত হবো? রামিসা হত্যার বিচার চাই। ধর্ষণ যারা করে, তাদের এমন উপযুক্ত শাস্তি চাই যেন পরেরবার কেউ এই ঘৃণিত কাজ করার চিন্তাও না করে। সবাই মিলে কবে আমরা একটা দেশ হয়ে উঠব? রামিসা হত্যার বিচার চাই।’
লিটন কুমার দাস বলেন, ‘একজন কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে রামিসার খবর শোনা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক। এ ধরনের ঘটনা কোনো সমাজেই সহ্য করা যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য এমন একটি নিরাপদ পৃথিবী দরকার, যেখানে তারা ভয় ছাড়া বড় হতে পারবে। যা ঘটেছে তার ন্যায়বিচার অবশ্যই দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যখন রামিসার বিচার চাইছি, তখন জোর দিয়ে বলতে চাই এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা আর কখনো এমন ট্র্যাজেডি দেখতে চাই না।’
ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস তার পোস্টে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এই দেশটাকে আপনি রক্ষা করুন। এই দেশে আর কোনো শিশুই নিরাপদ নয়। কিছু মানুষ হিংস্র পশুর চেয়েও বেশি হিংস্র হয়ে গেছে। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করে কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মতো আইন কার্যকর করা হোক। বিচারব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ আর কখনো এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। এই বিষয়ে দেশের সব মানুষ আপনার পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
মেহেদী হাসান মিরাজ লেখেন, ‘মিরপুরের পল্লবীতে নৃশংসতার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা এবং এ ধরনের অন্যান্য সব ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ষণ, নির্যাতন ও সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, সম্মান ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয়, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
রিশাদ হোসেন বলেন, ‘শিশুর হাসি হোক নিরাপত্তার প্রতীক, আতঙ্কের নয়। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিশ্চিন্তে বাঁচবে, ভালোবাসায় বড় হবে। রামিসার মতো আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়। দোষীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হোক। আল্লাহ ছোট্ট রামিসাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’
আফিফ হোসেন ধ্রুব লেখেন, ‘কোনো শিশুরই এমন ভয়াবহতার শিকার হওয়া উচিত নয়। নীরবতা কোনো বিকল্প নয়। আমরা বিচার, জবাবদিহি এবং শিশুদের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চাই। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার হতে হবে দ্রুত, কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক।’
তাসকিন আহমেদ তার পোস্টে বলেন, ‘একজন কন্যাসন্তানের অভিভাবক হিসেবে রামিসার ঘটনাটি সত্যিই ভীষণ কষ্টদায়ক ও মর্মান্তিক। এমন ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য এমন একটি নিরাপদ পৃথিবী দরকার, যেখানে তারা ভয় ছাড়া বড় হতে পারবে। রামিসার সঙ্গে যা হয়েছে, তার দ্রুত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি কার্যকর হওয়া জরুরি, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে না হয়।’
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেই শিশুর একটি স্কেচ ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে। ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব