মেহেরপুর প্রতিনিধি: সরকারি সার পাচার মামলায় মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় সোহরাব হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৪৬০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। ট্রাকটিতে থাকা সারের প্রতিটি বস্তায় বিএডিসির লোগো এবং উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম উল্লেখ ছিল। জব্দ করা সারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫/২৫(ডি) ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়ার মো. আবু তালেব ওরফে রিপন, উজলপুর গ্রামের মো. সজল, গাংনী উপজেলার সহোগলপুর গ্রামের মো. আব্দুস সালাম এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মো. আনোয়ার হোসেন বেপারী।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি বরাদ্দের ওই সার পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এ ঘটনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা ৪৫৯ বস্তা সার নিলামে বিক্রি করে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ও কৃষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমে সরকারি সার সংকটের সুযোগে অনেক সময় অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হয়। সরকারি বরাদ্দের সার পাচার হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরাই।
মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার অন্য জেলায় পাচারের চেষ্টা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মামলাটি বর্তমান কমিটি গঠনের আগের ঘটনা। আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি