স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে।
রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
ইশরাক হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে। সংসদ, রাজপথ কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই মতভেদ প্রকাশ পাবে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। কারণ গণতন্ত্র দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছিল। সেই ঐক্যের চেতনা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। আন্দোলন দমনে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে থেকে কেউ যদি আবারও গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়, তাহলে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশের পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা। তাই রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থে সব গণতান্ত্রিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অন্য নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে বক্তব্য দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব