| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৯, ২০২৬ ইং | ২২:৪১:২৫:অপরাহ্ন  |  ৮৪৭২ বার পঠিত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এই পরিমাণ ডিজেল আমদানিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য ওঠানামা এবং বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় কম বা বেশি হতে পারে।

সূত্র জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাদের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করে। পরে পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞ কমিটি যাচাই-বাছাই ও দর-কষাকষির মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো গ্রহণযোগ্য বলে মত দেয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে যাতে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় একক চালান হিসেবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ টন করে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ওমানভিত্তিক এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভারজেন্স টেকনোলজিস এলএলসির কাছ থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

নাইজেরিয়াভিত্তিক প্যাসিফিক সিলভারলাইন লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২২৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একেএ এনার্জি লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ১৭০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক টোটাল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৮৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিটিজামান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এইটিন সল্যুশনস এসডিএন বিহেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২৬৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ডেনমার্কভিত্তিক ইমপোরতাসিওনেস ব্রাভো গ্রুপ-চিলে এসপিএর কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক রয়্যাল বাবজি ফুয়েল ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। হংকংভিত্তিক সাইনোপ্রাউড ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক হেলথ আইকন ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৯৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কাজাখস্তানভিত্তিক কুমারাঙ্গাজি অয়েল ফিল্ডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৯৩৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কাজাখস্তানভিত্তিক এইচ-টু-ও পেট্রোকেম ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এইচ-টু-ও কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৯৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। দুবাইভিত্তিক ব্ল্যাক সোয়ান গ্লোবাল এফজেডসিওর কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। স্পেনভিত্তিক ওকেরিয়েল করপোরেশনের কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, প্রতিটি চালানের মূল্য নির্ধারণ করা হবে জাহাজে পণ্য বোঝাইয়ের তারিখে আরব উপসাগরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যসূচকে প্রকাশিত দামের ভিত্তিতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ের অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪