| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১১তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, যুদ্ধবিরতির আশা ক্ষীণ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২২, ২০২৬ ইং | ১০:০৬:৪৩:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৪ বার পঠিত
১১তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, যুদ্ধবিরতির আশা ক্ষীণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় ভেঙে পড়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার ভোরের হামলার কথা নিশ্চিত করলেও কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে।

হামলার আগে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তান সফর করে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাকিস্তান আবারও দুই পক্ষকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা চালালেও নতুন কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ইরান এখনও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। মঙ্গলবার ইরানের হামলায় একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাবিকদের জাহাজ ত্যাগ করতে হয়।

সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য ৪ ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তার দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। যদিও পেন্টাগনের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ৪৮২।

এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, সতর্কবার্তার পর কয়েকটি জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও "অর্থবহ সমঝোতার পরিবেশ" না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে বসবে না। অপরদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক বা কৌশলগত স্থাপনায় নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে আরও কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ফার্স, হরমোজগান, ইলাম, কেরমান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে জর্ডান জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে ছোড়া পাঁচটি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কুয়েত অভিযোগ করেছে, টানা চতুর্থ দিনের মতো তাদের বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে "অগ্রহণযোগ্য" উল্লেখ করে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪