| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ‘কারচুপির শিকার’, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২২, ২০২৬ ইং | ১৮:০৪:৩৮:অপরাহ্ন  |  ১০৭০ বার পঠিত
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ‘কারচুপির শিকার’, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কারচুপিপূর্ণ করে তোলার অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিও মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে সাজা নিশ্চিত করা যায়নি।

তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে। এদিন কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে  কালো বাহুবন্ধনী পরে উপস্থিত হন রাহুল। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই কালো বাহুবন্ধনী পরেছেন বলে জানান। 

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, "যে শিক্ষা ব্যবস্থা একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ সেটি কারচুপিতে ভরা একটি ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।" তাঁর প্রশ্ন, "দেশের ছাত্রছাত্রীরা কী অপরাধ করেছে যে তাদের দিকে নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্র তাক করছে, মারধর করছে, অপমান করছে?" 

তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, "তিনি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।"কংগ্রেস সাংসদের দাবি, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা কোনও অযৌক্তিক দাবি করছে না। তারা শুধু একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা চাইছে। কিন্তু সেই ন্যায্য অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া বহু শিক্ষার্থী চরম মানসিক চাপে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন রাহুল। তাঁর কথায়, "অনেক ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। বছরের পর বছর পরিশ্রম করার পর শেষ মুহূর্তে জানতে হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। এটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দেশের এক গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে।"

রাহুলের দাবি, গত এক দশকে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি মাসেই একটি করে ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতসব ঘটনার পরেও সরকার একটিও দোষীকে শাস্তি দিতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির।

তিনি বলেন, "পরিবারগুলি কষ্টার্জিত অর্থ সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ব্যয় করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। কিছু ব্যক্তি বা একটি চক্র ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ—ধ্বংস করছে। অথচ সরকারের ঝুলিতে একটিও দোষী সাব্যস্ত করার নজির নেই।"

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পরিবারগুলিকে বিপুল আর্থিক ব্যয় বহন করতে হয় বলেও দাবি করেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, একটি বড় পরীক্ষার জন্য পরিবারগুলির যে ব্যয় হয়, তা প্রায় সরকারের সমগ্র শিক্ষা বাজেটের সমপরিমাণ আর্থিক চাপ তৈরি করে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের উপর অর্থনৈতিক বোঝা আরও বেড়ে যাচ্ছে।এর আগেও রাহুল গান্ধী একাধিকবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, সরকার সরকারি পরীক্ষাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪