খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠেছে পুরো এলাকা। পারিবারিক কলহ ও টাকার জন্য অপমানিত হওয়ার জেরে নিজের দাদী ও ফুফুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক যুবক-এমন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে।
পুলিশ জানায়, (২০ আগস্ট) রাত থেকে (২১ আগস্ট) ভোরের মধ্যে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব বাগান টিলার একটি বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন আমেনা খাতুন (৮৮) এবং তার মেয়ে রাহেনা আক্তার (৪০)। ২২ আগস্ট নিহত রাহেনা আক্তারের ছেলে মো. হাসান (২০) বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা (নং-০৪) দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, আসামি সাইফুল ইসলাম (৩৫) ঘটনার রাতে তার দাদীর বাড়িতে এসে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ও অপমানিত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ সাইফুল হত্যার পরিকল্পনা করে। গভীর রাতে প্রথমে রাহেনা আক্তারের ঘরে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে একইভাবে নিজের দাদী আমেনা খাতুনকেও হত্যা করে।
হত্যার পর সাইফুল রাহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারে গিয়ে মাত্র ৪০০ টাকায় মোবাইলটি বিক্রি করে। পুলিশ জানায়, সাইফুল ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর কুহুমা দারোগাছড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার পূর্ব শিকদারখীল এলাকায় কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে এবং মোবাইল বিক্রির বিষয়েও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা