লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নাজিম উদ্দিন হাসিব এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকায় তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো: জসীম উদ্দিন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ হিসেবে হাসিবের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি। সহায়তা পেয়ে হাসিব পৌর প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে হাসিবের মা তার সন্তানের ভর্তি ও পড়াশোনা জন্য সহায়তা চেয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তার মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে পৌরসভার প্রশাসক হাসিব ও তার মা ফাতেমা ইয়াসমিনকে ডেকে আনেন।
জানা যায়, দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করেই বেড়া ওঠা নাজিম উদ্দিন হাসিবের। গত চার বছর আগে তার বাবা মারা যায়। দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের মা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। হাসিব এবার লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ নিয়ে পাস করেছেন। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তার পরিবার ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো: জসীম উদ্দিন বলেন, টাকার অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ার স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে না। শুধুমাত্র দরিদ্র হওয়ার কারণে আর বাবা না থাকার কারণে একজন মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে না। এ কারণে তাকে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছি। হাসিবের উচ্চশিক্ষা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকব।
ভর্তির টাকা পেয়ে আনন্দিত হাসিব। তিনি বলেন, আমি নৌ বাহিনীর কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন অনেকটা অধরার মতো ছিল। পৌর প্রশাসক স্যার আমার স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি আজীবন স্যারের কথা মনে রাখব।
হাসিবের মা ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, ছেলে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে। কিন্তু এখন তো ভর্তি আর পড়াশোনার খরচ জোগানোই বড় চিন্তা ছিল। পৌর প্রশাসক স্যার আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে নগদ টাকা দিয়েছেন। আমি চাই আমার ছেলে যেন স্যারের মতো বড় মনের মানুষ হতে পারে। স্যারের জন্যও আমি দোয়া করব সব সময়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন