অপারেশন সিঁদুরের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ৯টি স্থানে ভারতের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দুই দেশকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারত-পাকিস্তানের এই সংঘাতে সরাসরি কোনও না কোনও পক্ষ নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং সে অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীকে উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এএফপিকে বলেছেন, মঙ্গলবার রাতের হামলায় পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিক ও মসজিদকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে ভারত।
ভারতের হামলাকে ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এই হামলা আঞ্চলিক শান্তিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সকল উপায়ে প্রতিরোধ করবে।’
বুধবার ভোররাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ধারাবাহিক নির্ভুল হামলা চালিয়ে ৮০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করেছে। এই অভিযানটি 'অপারেশন সিন্দুর' নামে পরিচিত, যা ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়। অপারেশন সিন্দুরের প্রধান লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পিওকে-তে অবস্থিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদ (JeM), লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা। এই হামলা ছিল পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।