মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি এতিমখানায় হাসান (৯) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত হাসান গাংনী উপজেলার আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে তার মা মারা যান। পরে আর্থিক ও পারিবারিক সংকটের কারণে আট মাস আগে হাসান ও তার ছোট ভাই হুসাইনকে গাংনী এতিমখানায় ভর্তি করা হয়।
হাসানের বাবা বিপ্লব হোসেন জানান, রোববার সকালে এতিমখানা থেকে ফোন করে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এমন আকস্মিক ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
গাংনী এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, সকালের নাশতা শেষে অন্য শিশুরা বাইরে গেলেও হাসান কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে দুই শিশু তাকে কক্ষের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার মুখে রক্তের দাগ ছিল। দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হয়েছে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি