স্টাফ রিপোর্টার: নারী লাশের পোস্টমর্টেম করতে পোস্টমর্টেমকৃত হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এর আগে ১৩ জুলাই দেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। রিটে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে আইনজীবী মনির উদ্দিন প্রতিটি হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মেই নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে পুরুষ কর্তৃক মৃত নারীর লাশের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে।
সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারী মারা গেলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যখন তারা জানতে পারে যে, তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম একজন পুরুষ করবেন, তখন তা আরও হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে। যদি কোনো নারী ডোম এ কাজটি করতেন, তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা কিছুটা সান্ত্বনা পেতেন।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে নারীরা সবক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে কাজ করছেন। ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় নারী ডোম থাকলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্যও দূর হবে।
আধুনিক সমাজে নারী রোগী বা লাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।
২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ ওঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।
অন্যদিকে এক-দুইটি নয়, ১শ’টি লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক মর্গরক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১শ’টি লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগ এবং লাশের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব